নাইকন ক্যামেরা ব্যাটারী

জেনে নিন ক্যামেরা ব্যাটারীর বিষয়ে কিছু জরুরী জিনিস!

Blog, Tech , , , , , ,
কিছুদিন আগে অসুস্থতার জন্য বেশ লম্বা সময় ক্যামেরা ইউজ করতে পারিনি।  প্রায় তিনমাস ক্যামেরার লিথিয়াম আয়ন [Li-Ion] দুই সেট ব্যাটারী এবং ফ্ল্যাশ এ ব্যবহার করা নিকেল মেটাল হাইড্রাইড [Ni-Mh] ব্যাটারীর কোন খোজ খবরই নিতে পারিনি।
Nikon Li-ion Battery ব্যাটারী
প্রপার ওয়েতে স্টোর না করার ফলে যখন প্রায় তিনমাস পরে ব্যাটারী চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ দিয়ে ইউজ করতে গেলাম, দেখা গেল ফুল চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জে মাত্র বিশটা ছবি তুলেই এক একটা ব্যাটারী এম্পটি শো করছে।
 
অনেক কবিরাজি বুদ্ধি করে সে যাত্রা রেহাই পাওয়া গেছে!!
 
তখন নেট ঘেটে ব্যাটারীর টেক কেয়ার সংক্রান্ত কিছু টিপস পেয়েছিলাম, শেয়ার করছি সেগুলো আজ।
 
১. লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারী স্টোর করতে গেলে, বিশেষ করে লম্বা সময়ের জন্য স্টোর করতে গেলে কমপক্ষে 40 পারসেন্ট চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ দিয়ে স্টোর করতে হবে। এটা বেসিকালি সব ব্যাটারীর জন্যই কমবেশি প্রযোজ্য।
 
যত যত্ন করেই ব্যাটারী স্টোর করুন না কেন, এটা প্রতিনিয়ত কিছু না কিছু চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ হারাচ্ছে, সাধারনত এটার পরিমান খুব কম হয়, তাই ভাল পরিমানে চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ থাকলে বছর খানেক বা আরও বেশি সময় উপযুক্ত পরিবেশে সহজেই ব্যাটারী সু-স্বাস্থের সাথে টিকে থাকতে পারে।
 
লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারী বেশ নাজুক এবং স্প‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্শকাতর ব্যাটারী। প্রপার ওয়েতে চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ এবং ডিসচা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ না করালে এটার ইউজেবল লাইফ কমতে থাকে। যখন ক্যামেরাতে ব্যাটারী এম্পটি শো করে নো শাটার রিলিজ দেখায় , তখণও বেশ কিছু পরিমান চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ ব্যাটারীতে থেকেই যায়, প্রায় আট বা নয় পারসেন্ট এর মত। তাই শাটার রিলিজ না হলেও ক্যামেরায় ছবি প্রিভিউ এবং অন্যান্য কাজ করা যায়। যখণ এই চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ পাচ পারসেন্ট এর নিচে নেমে যায়, তখন ব্যাটারীতে থাকা নিজস্ব চিপ পাওয়ার আউটপুট বন্ধ করে দেয় ব্যাটারীকে প্রটেক্ট করার জন্য।
 
কোনভাবে যদি ব্যাটারী পাওয়ার লেভেল দুই পারসেন্ট বা তার চেয়েও নিচে চলে আসে, তাহলে ব্যাটারী কোমায় চলে যায় এবং সেখান থেকে তাকে রিকভার করার কোন চান্স নেই বললেই চলে। একবার কোমায় চলে গেলে ব্যাটারী প্রায় নিশ্চিতভাবেই তার সকল কা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে পারমানেন্ট ভাবে।
 
ধরুন, অতিরিক্ত ব্যবহারে আপনার ব্যাটারী লো হয়ে ক্যামেরা অফ হয়ে গেল। আপনি ব্যাটারী চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ না করেই রেখে দিলেন এবং প্রায় একমাস পরে যখন চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ করতে যাবেন, দেখবেন হয়ত আপনার ব্যাটারী আর কাজ করছেনা। কারন, আগেই বলেছি, ইউজ না হলেও কিছু পরিমানে চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ হারাতে থাকে ব্যাটারী এবং পাচ পারসেন্ট থেকে দুই পারসেন্ট বা এর নিচে নেমে আসা তখন কেবল মাত্র সময়ের বিষয়…. আর একবার কোমা লেভেলে চলে গেলে সেই ব্যাটারী ফিরে পাবার চান্স নেই বললেই চলে।
 
তাই, লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারী কখনই এম্পটি না রেখে শেষ হলেই চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ দেয়া উত্তম। শেষ না হলেও চার্জ দেয়া যেতে পারে।
 
২. ব্যাটারীর মেমরী এফেক্ট বলে একটা জিনিস আছে, যেটা নিয়ে দশ বছর আগেও ক্যামেরা ইউজার, বিশেষ করে ভিডিও ক্যামেরা ইউজাররা খুব চিন্তিত থাকতেন। তখণ বেশিরভাগ সময় ইউজ হত নিকেল ক্যাডমিয়াম ব্যাটারী, যেগুলো ঠিকভাবে ডিসচা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ না করলে সময়ের সাথে সাথে কা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্যক্ষমতা হারাত।
 
বিষয়টা এরকম, ধরুন আপনি কাজ করার পরে ব্যাটারী চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ দিয়েছেন, কিন্তু আগের চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ পুরো ডিসচা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ না করেই হয়ত তিরিশ পারসেন্ট চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ বাকি থাকতেই আবার রিচা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জে দিয়েছেন। এভাবে যদি কিছুদিন করেন, একসময় ব্যাটারীতে মেমরী এফেক্ট চলে আসবে এবং এর পরে যখনই চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ তিরিশ পারসেন্টে চলে আসবে, ব্যাটারী পাওয়ার সাপ্লাই দিতে অস্বীকৃতী জানাবে। সে তিরিশ পারসেন্ট চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ বাকি থাকতেই শো করবে যে ব্যাটারী এম্পটি এবং এভাবে কন্টিনিউ হতে থাকলে এক সময় একশ পারসেন্টেও এম্পটি শো করবে।
নিকেল ক্যাডমিয়াম ব্যাটারী ক্যামেরা ব্যাটারী
এই বিপদ থেকে বাচার জন্য সিরিয়াস ইউজাররা চেষ্টা করতেন ব্যাটারী পুরো ইউজ করে তারপরেই চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জে দিতে। আবার অনেক সময় ঐ ব্যাটারীগুলোর চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জারেও ডিসচা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ অপশন থাকত, নতুন করে চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ করার আগে আগে পুরো ডিসচা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ করে নেয়া হত এবং এর পরে রিচা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ করা হত। তবে সেগুলো অনেক দামী চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জার এবং সবাই ইউজ করতে পারতেন না।
 
এর পরে নিকেল ক্যাডমিয়াম এর মেমরী এফেক্টকে জয় করতে বাজারে এল নিকেল মেটাল হাইড্রাইড ব্যাটারী। যদিও বলা হয়েছিল, এই ব্যাটারীতে কোন মেমরী এফেক্ট নেই, তারপরেও পরব‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্তীতে দেখা গেছে সামান্য পরিমানে মেমরী এফেক্ট তৈরি হয় এই ব্যাটারীতেও।
 
মেমরী এফেক্ট বিহীন ব্যাটারী হল লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারী। আপনি যে চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ লেভেল থেকেই চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ দিন না কেন, আপনার ব্যাটারীতে কোন রকম মেমরী এফেক্ট থাকবে না, বরং আপনি যদি চিন্তা করেন যে ব্যাটারী শেষ হোক এবং তারপরে চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ দেব, আর যদি অনিয়মিত ব্যবহারে চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ শেষ হতে হতে সময় লেগে যায় মাসখানেক [সিরিয়াস ইউজার যদি না হন আরকি!!] তাহলেই বরং ব্যাটারীর ক্ষতি হবার সুযোগ আছে।
 
লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারী সবচেয়ে ভাল থাকে রেগুলার চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জে এবং রেগুলার ডিসচা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জে। পারলে প্রতিদিনই চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ দিন, মাঝখান থেকেই চার্জ দিন, প্রায় পুরো চার্জ থাকলেও চার্জ দিন, কোন সমস্যা নেই বরং সেটা ব্যাটারীর আয়ু বাড়াতে সাহায্য করবে।
 
৩. যে কোন ব্যাটারী, সেটা লিথিয়াম আয়ন হোক আর নি-ক্যাড অথবা নিকেল মেটা হাইড্রাইড, সবারই একটা চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ সাইকেল লিমিট থাকে। একটা নি‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্দিষ্ট বার চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ হবার পরে ব্যাটারী আর নতুন চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ নিতে আপত্তি জানায়, যদিও সে হয়ত এম্পটি।
 
নিকেল ক্যাডমিয়াম ব্যাটারী এবং নিকেল মেটা হাইড্রাইড ব্যাটারী পুরো ডিসচা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ না করে মাঝখান থেকে চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ দিলে সেটাও এক সাইকেল ব্যাটারী চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ বলে গন্য হয়। আপনি ব্যাটারী চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ করতে দিয়েছেন, এর মাঝে পাওয়ার ফেইল করল দুবার, আবার নতুন করে চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ শুরু হল পাওয়ার ফিরে আসার পরে। আপনার ব্যাটারী তিনবার চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ হয়েছে কাউন্ট করবে এবং ব্যাটারীর রিচা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জিং সাইকেল তথা লাইফটাইম কমবে।
সিকেল মেটা হাইড্রাইড ব্যাটারী ক্যামেরা
আমি সোনির যে নিকেল মেটা হাইড্রাইড ব্যাটারী ইউজ করি, সেটা রেটেড করা আছে এক হাজার বার চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জিং সাইকেলে। এরমানে হল এটা এক হাজার বার রিচা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ করা যাবে। কিন্তু আট ঘন্টার রিচা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জিং টাইমে যে কবার করে লোডশেডিং হচ্ছে আজকাল!! আমি আমার ব্যাটারীর ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত!!
 
কিন্তু মজার কথা হচ্ছে, লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারীর ক্ষেত্রে এই রিচা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ সাইকেল একটু ভিন্নভাবে কাজ করে। শুন্য থেকে পুরো চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ হওয়াকে এক সাইকেল ধরা হয় এবং এই কাজ কয়বারে করা হল সেটা কোন বিষয় নয়। আপনি আপনার লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারী যতবার মনে চায় চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ দিতে পারেন, আবার চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ শেষ হবার আগে খুলে ইউজ করতে পারেন।
 
অন্য ব্যাটারীতে বার বার চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জিং টাইমে ডিসকানেক্ট এর যে সমস্যা, লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারী আপনাকে সেই সমস্যা দেবে না। বরং একটা গবেষনায় দেখা গেছে আপনি যদি অ‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্ধেক চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ বাকি থাকতেই চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ দেন রেগুলার, তাহলে আপনার ব্যাটারী লাইফ বাড়বে চারগুন। যদি মাত্র পচিশ পারসেন্ট ইউজ করে বা পচাত্তর পারসেন্ট চা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ বাকি থাকতেই রেগুলার রিচা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্জ করার অভ্যাস করেন, তাহলে ব্যাটারীর আয়ু বাড়তে পারে বিশ থেকে পচিশ গুন।
 
ব‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্তমানে প্রচুর ডিভাইস লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারী ইউজ করে, যেমন ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট, বিভিন্ন ব্রান্ড এর ক্যামেরা ইত্যাদি। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারী নিয়ে বিষয়গুলো মাথায় রাখলে আপনার পারসোনাল সেফটির পাশাপাশি ব্যাটারী লম্বা সময় নিয়ে ইউজ করতে পারবেন।
 
ব্যাটারী নিয়ে আরও ডিটেল জানার জন্য যেতে পারেন এই লিংকে-http://batteryuniversity.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *