হাইড্রোপোনিক ভার্টিকাল গার্ডেনিং, ভবিষ্যতের খাদ্য ভান্ডার!

Blog, Life Style, Sustainable living , , ,

ভার্টিকাল ইনডোর ফার্মিং মোটামুটিএকটা নতুন ধারনা। আবার বেসিকটা হিসেবে ধরলে রীতিমত প্রাচীন ধারনাও বলা যায়।

ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান থেকে যার শুরু, সময়ে সময়ে তার বিভিন্ন পরিবর্তন হয়েছে, উন্নয়ন হয়েছে, বিভিন্ন শাখা প্রশাখা তৈরি হয়েছে। তবে বেসিকটা ঠিকই রয়ে গেছে।

মাটি ছাড়া চাষাবাদ। সেটা ফুল হোক আর ফল বা সবজিই হোক। মাটি ছাড়া চাষাবাদ করার পদ্ধতিকে বলা হয় হাইড্রোপোনিক গ্রো সিস্টেম।

মাটি ছাড়াও শুধু মাত্র পানি দিয়ে গাছ বাচিয়ে রাখার মত জটিল কাজ আমরা হরহামেশাই করেছি। বাড়িতে মানিপ্লান্ট নেই বা কখনও ছিল না এরকম পরিবার বাংলাদেশে বেশি নেই। মাটি ছাড়া, কেবল পানিতে গাছের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে শুধু বাচিয়ে রাখা নয়, সেই গাছ থেকে ফল মুল, সবজি কিংবা আরও নানা সুবিধা নেবার মত উন্নত পদ্ধতি এখন ব্যবহার হচ্ছে সারা পৃথিবীতে।

হাইড্রোপোনিক এরই উন্নত এবং আরও ইফিশিয়েন্ট প্রয়োগ পদ্ধতি হল ভার্টিকাল হাইড্রোপোনিক গার্ডেনিং। যেখানে গাছপালাকে শুধু পানিতে বাচিয়ে বড় করাই হয় না, জায়গার সর্বাধিক ব্যবহারের দিকেও মনোযোগ দেয়া হয়। ভার্টিকাল মানে উপর নিচ বুঝায়, সুতরাং ভার্টিকাল গার্ডেনিং মানে হল গাছ গুলোকে একটার উপরে আর একটা বসিয়ে অনেক উচু পর্যন্ত গ্রো করা।

বর্তমান বিশ্বে তাই হাইড্রোপোনিক সিস্টেমে চাষাবাদ এখন অত্যন্ত ট্রেন্ডি একটা বিষয় এবং তা হবার গুরুত্বপুর্ন কারনও আছে। সম্প্রতি নিউজার্সিতে একটি ভার্টিকাল হাইড্রোপোনিক গার্ডেন চালু হয়েছে যেখানে মাটিতে চাষাবাদ করলে যা হত, তার চেয়ে ৭৫ গুন বেশি সবজি তারা ফলাচ্ছে, প্রায় বছরে দেড় মিলিয়ন টন এর কাছাকাছি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন বিষয়টা হল, এতে পানি দরকার হয় খুবই কম। একটা ট্রাডিশনাল জমিতে যা পানি দরকার, তার থেকে ৯৫ শতাংশ কম পানি ব্যবহার করেই গাছ গ্রো করা সম্ভব হচ্ছে এবং এই পানি বার বার ব্যবহার করার জন্য বর্তমান টেকনোলজি আরও পারফেক্ট করার কাজ করে চলেছে তারা।

আরও সুবিধা হল, পুরো বিষয়টা যেহেতু গ্রীনহাউজ গার্ডেনিং এর মত আবদ্ধ পরিবেশে করা হয়, তাই পুরো সিস্টেমে কোন পোকা মাকড় ঢুকতে দেয়া হয় না। কোন ব্যাকটেরিয়া ফাঙ্গাস তৈরি হবার সুযোগ দেয়া হয় না। আর এগুলোকে মারার জন্য কোন রকম কীটনাশক বা বালাইনাশকও দেয়া লাগে না।

নট অনলি এই সিস্টেমে অনেক কম পানি খরচে অনেক অল্প জায়গায় অনেক অনেক গুন বেশি ফলাফল পাওয়া যায়, এই ব্যবস্থায় কোন রকম ক্ষতিকর কীটনাশকের ভয়ও নেই।

হঠাৎ করে এই আলাপ পেড়ে নিয়ে আসার কারনটা হল, চাই বা না চাই, ভারতের বিভিন্ন কার্যকলাপেই হোক আর গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়াই হোক, নদী-মাতৃক বাংলাদেশ, যেখানে পানি ছিল অঢেল এক সময়, যে কোন জায়গায় বীজ ছড়িয়ে দিলেই সোনা ফলত, সেই দিন আর নাই।

দিন বদলাইছে, বাংলালিংক অনেক চিৎকার চেচামেচি করলেও সেটা ভালর দিকে বদলায় নাই। মানুষ বাড়ছে। জায়গা কমছে। পানি কমছে। সবকিছুই কমতির দিকে।  এখণ যদি বাংলাদেশে উন্নত চাষাবাদ টেকনোলজি গ্রহন করা না হয়, খুব বেশি দিন নয়, যেদিন বাংলাদেশে আর সোনার ফসল ফলবে না, বরং বিরান ভুমি হয়ে যাবে।

পানির পরিমান কমে যাচ্ছে এটা সারা দুনিয়ার সমস্যা এখন। সুতরাং সময়ের সাথে সাথে নতুন টেকনোলজির সাথে মানিয়ে নিতে না পারলে শস্য শ্যামলা সুজলা সুফলা বাংলাদেশেও একটা সময় যে চাষাবাদে করুন অবস্থা দেখা দেবে, তাতে সন্দেহ নেই।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *